
ছবি: ইশা সাউ
বরানগর, উত্তর ২৪ পরগনা: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বরানগরে ২৪ বছর বয়সি উইপ্রো কর্মী ঈশা সাউয়ের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। পাঁচতলা একটি ভবন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাদ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইন্ডিয়া হুড-এ প্রকাশিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ঈশার পরিবারের দাবি, আদিল ওয়াকার নামে এক ব্যক্তি নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং নিজের মুসলিম পরিচয় গোপন করেছিলেন বলে তাঁদের অভিযোগ। ওই ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর থেকেই সম্পর্কে অশান্তি শুরু হয় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে আপত্তি জানান ঈশার মা। সেই সময় তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, এরপর ঈশার সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের বিবাদ বাধে এবং তাঁকে বাড়ির ছাদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বচসা ও সংঘর্ষের কিছুক্ষণ পরই তিনি পাঁচতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে যান বলে অভিযোগ।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি
ঘটনার সময় বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা ঈশাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তাঁকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ঈশার মৃত্যু কীভাবে ঘটল, তিনি দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পরিবারের তরফে ওঠা অভিযোগগুলিরও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।
তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, ফরেনসিক তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি, মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কোনও অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত।
পরিবারের তরফে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিও তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগগুলিকে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না।
ঈশার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

