ফুলবনি গ্রামের দুর্গা পূজা আয়োজন করে আমরা ক'জন সংঘ। মুসলিমদের আপত্তির কারণে পূজা মণ্ডপের মাইকের আওয়াজে থাকতো বিধিনিষেধ। বাজনা নিয়েও ছিল কড়াকড়ি। অতীতে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে দুর্গা পূজা করতে হয়েছে। বিসর্জনের শোভাযাত্রা করার অনুমতিও ছিল না। কোনও সময় পাশের এক পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন করতে হতো। এমনও কথা কান পাতলেই শোনা যায় যে বিসর্জনের বদলে প্রতিমাকে সমাধি দিতে হয়েছিল।
কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর বদলে যায় ছবি। এ বছর ফুলবনি গ্রামে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হলো ধুমধাম করে, কোনও রকম বিধিনিষেধ ছাড়াই। পূজা উদ্ধোধন করেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শ্রী শিশির অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী শান্তনু সিংহ। উৎসাহের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো দুর্গা পূজা।
![]() |
| ছবি: ফুলবনি গ্রামে বিসর্জনের শোভাযাত্রা। |
বিসর্জনের দিন এই গ্রাম দেখলো এক অন্য ছবি। ৩১ বছর পর এই প্রথম বের হলো দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা। প্রথমে প্রশাসনের তরফে আপত্তি জানানো হলেও পরে শোভাযাত্রাযর অনুমতি দেয়। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন উত্তর কাঁথির বিধায়ক সুমিতা সিনহা। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে বিসর্জন হলো মা দুর্গার প্রতিমা। ফুলবনি গ্রামের আকাশ বাতাসে তখন এক ধ্বনি ‘আসছে বছর, আবার হবে’।




